মেনু নির্বাচন করুন

রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়

  • সংক্ষিপ্ত বর্ণনা
  • প্রতিষ্ঠাকাল
  • ইতিহাস
  • প্রধান শিক্ষক/ অধ্যক্ষ
  • অন্যান্য শিক্ষকদের তালিকা
  • ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা (শ্রেণীভিত্তিক)
  • পাশের হার
  • বর্তমান পরিচালনা কমিটির তথ্য
  • বিগত ৫ বছরের সমাপনী/পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল
  • শিক্ষাবৃত্ত তথ্যসমুহ
  • অর্জন
  • ভবিষৎ পরিকল্পনা
  • ফটোগ্যালারী
  • যোগাযোগ
  • মেধাবী ছাত্রবৃন্দ

রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়

১৯৬৭ সালের ১১ নভেম্বর বেতাগী ইউনিয়নের প্রায় চারশতাধিক বিশিষ্ট ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি বর্গের উপস্থিতিতে বেতাগী ইউনিয়নের শিক্ষা সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে মধ্য বেতাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয় । আলোচনা সভায় বাবু প্রিয়নাথ বড়ুয়ার সভাপতিত্বে দেশের ক্রমবর্ধমান শিক্ষা সম্প্রসারনের পরিপ্রেক্ষিতে অত্র ইউনিয়নে একটি উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করে বক্তাগন বক্তব্য উপস্থাপন করেন । পরিশেষে ৩৫(পঁয়ত্রিশ) সদস্য বিশিষ্ট একটি শক্তিশালী প্রস্তুতি কমিটি গঠিত হয় ।

উপরোল্লিখিত তারিখে ঘোষিত তারিখ অনুযায়ি ০৩/১২/১৯৬৭ তারিখে প্রায় সহস্রাধিক লোকের উপস্থিতিতে চম্পাতলী ঈদগাহ ময়দানে জনাব সৈয়দ আহমদুল হক এম.এ এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়।সভায় বক্তাগন পুনরায় অত্র ইউনিয়নে উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষন করে বক্তব্য প্রদান করেন । পরিশেষে ১২৫(একশত পঁচিশ) সদস্য বিশিষ্ট একটি সাংগঠনিক কমিটি গঠিত হয় ।

পরবর্তীতে ১৭/১২/১৯৬৭ তারিখে সাংগঠনিক সভায় বাবু বাদল বরন বড়ুয়া সভাপতিত্বে উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্থান নির্বাচন করে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার পদক্ষেপ গ্রহন করা হয় । সে সাথেহাত বাঁশের বেড়া ঘর তৈরীর জন্য স্থানীয় ব্যক্তি বর্গের নিকট হইতে অনুদান গ্রহন করে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র তৈরীর জন্য কমিটি গঠন করা হয় ।

বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি ও আনুষঙ্গিক কার্যাদি সম্পাদনের জন্য জনাব আবুল হায়াত চৌধুরী কে দায়িত্ব দেওয়া হয় । তিনি সেখানকার আম গাছ তলায় বসে ৪ঠা জানুয়ারী সকাল বেলা ষষ্ট থেকে নবম শ্রেনী পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করেন । সে দিন চম্পাতলী মাঠের বিরাট জনসভায় স্থান নির্বাচনী কমিটির নির্ধারিত স্থানটি বিপুল সংখ্যক হস্ত উত্তোলনের মাধ্যমে অনুমোদিত হয় । একই জনসভায় বিদ্যালয়ের নাম “বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়” নামটি অনুমোদিত হয়।এ ছাড়া চট্টগ্রাম সদরমহকুমার হাকিম জনাব কে.এম রহমানকে সভাপতি ও জনাব আমিনুর রহমান চৌধুরীকে সম্পাদক নিযুক্ত করে ১১ (এগার) সদস্যের একটি নির্বাহী কমিটি গঠিত হয় । নির্বাহী কমিটি কর্তৃক আবুল হায়াত চৌধুরী প্রধান শিক্ষক নিযুক্ত হন।বিদ্যালয়ের শিক্ষক শিক্ষিকা নিয়োগের জন্য জনাব আবুল খায়ের মাষ্টারকে আহবায়ক নিযুক্ত করে একটি এড হক কমিটি গঠিত হয় । উক্ত কমিটি৫ই জানুযায়ী ১৯৬৮ তারিখে অধ্যাপক বাদল বরন বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ৯ জন শিক্ষক শিক্ষিকাকে নিয়োগ প্রদান করেন ।

বাঁশের বেড়া ,তজ্জার ছাউনি ও পাহাড়ী গাছের খুটি দিয়ে ০১/০১/১৯৬৮ সালে বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয় । প্রথম বছর ষষ্ট,সপ্তম, অষ্টম,নবম শ্রেনীতে যথাক্রমে ৬৬ জন, ৫০জন, ৩৬ জন ও ৩৯ জন সর্বমোট ২২৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়ের পদযাত্রা শুরু হয় ১৯৬৯ সালে দশম শ্রেণী শুরু করে ১৯৭০ সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে । বিদ্যালয়টি ১৯৬৯ সালে সরকার হতে তথা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড কুমিল্লা কর্তৃক মাধ্যমিক বিদ্যালয় হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে ।

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বকোণের প্রত্যন্ত জেলা চট্টগ্রাম প্রাচ্যের রাণী হিসাবে যার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের খ্যাতি ছিল সুদূর বিস্তৃত-এরই বুক চিরে রূপালী ফিতার মতো সাগর বক্ষে গিয়ে মিশেছে লুসাই কন্যা কিংবদন্তীর নায়িকা কর্ণফুলী ।

চট্টগ্রাম শহর থেকে সেই  কর্ণফুলীর উজান পথে ২৪ কিলোমিটার দূরের উত্তর তীর ঘেঁষে যেখান থেকে  রাঙ্গুনীয়া থানার শুরু সেখান থেকে শুরু হয় বেতাগী ইউনিয়নের ।

ছোট ছোট সুবজ পাহাড়- টিলা খচিত এ ইউনিয়নের লোকসংখ্যা প্রায় পঁচিশ হাজার । বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত কোন উচ্চ বিদ্যালয় ছিল না । তিন থেকে ছয় মাইলের মধ্যে চারপাশে যে চারটি উচ্চ বিদ্যালয় গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন থানায় সেখানে বেতাগী ইউনিয়নের নগণ্য সংখ্যক ছেলেরাই বিপুল কষ্ট স্বীকার করে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাগ্রহণ করতে যেতে পারতো । মেয়েদের জন্য সে সুযোগ একেবারে ছিল না বললেই চলে ।

এমতাবস্থায় ষাটের দশকের শেষ দিকে জনাব সৈয়দ আহমদুল হক সাহেবের প্রেরণায় কৃতি শিক্ষক সমাজ-সেবী জনাব আবুল হায়াত চৌধুরীর নেতৃত্বে স্থানীয় বিদ্যোৎসাহী সুধীজন, শিক্ষানুরাগী শিক্ষকগন এবং আপামর জনসাধারনের সম্মিলিত প্রয়াসে বেড়ার ছাউনী ও তজ্জার বেড়া দিয়ে বেতাগীর প্রায় মধ্যস্থলে একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক রূপ খাড়া করা হয় । ইউনিয়নবাসীর নিজস্ব বিদ্যালয়ের দাবী স্বীকৃতিস্বরূপ এর নাম রাখা হয় বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়।যে স্থানে এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় তার কাছেই গ্রামে যুবকের মিলন-তীর্থভূমি চম্পাতলী খেলার মাঠ । বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার মাধ্যামে সে মিলনক্ষেত্রটি হলো আরো সুদূরপ্রসারী ।

ইতিমধ্যে তজ্জার ছাউনি ও বাঁশের বেড়ায় নির্মিত আটটি শ্রেণীকক্ষ সমন্বিত প্রধান বিদ্যালয় গৃহের পাশেই চট্টগ্রামমস্থ ইসমাইলিয়া সম্প্রদায়ের তদানিন্তন শিল্পপতি জনাব এম এ হাসান ও জনাব মোহাম্মদ আলী মেঘানীর অর্থানুকূল্যে নির্মিত পাকা ইটের তৈরী চারটি শ্রেণীকক্ষ একটি বিজ্ঞান পরীক্ষাগার, প্রধান শিক্ষকের অফিস কক্ষ এবং শিক্ষকদের কক্ষ সমিন্বিত আর একটি একতলা ভবন খাড়া করা হয়। তবু তা ছিল একটি আধুনিক বিদ্যালয়ের তুলনায় একেবারে শ্রীহীন ও অপর্যাপ্ত, কোন রকমে কাজ চালানোর মতো অবস্থায় ।

এপর্যায়ে এ বিদ্যালয়টির সর্বাঙ্গীন উন্নয়নের জন্য যেন এক বৈপ্লাবিক ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের কার্যক্ষেত্রে অবতীর্ণ হন ইসকান্দার আহমদ চৌধুরী । তিনি বেতাগীর সর্বজনশ্রদ্ধেয় শিক্ষানুরাগী বিদ্যোৎসাহী কৃতি সন্তান-জাপান বেতারে বাংলা অনুষ্ঠান সম্প্রচার ও নানাবিধ কার্যোপলক্ষে জাপানে অবস্থান করছিলেন ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকেই । আমাদের পরম সৌভাগ্য যে, তিনি কিন্তু স্বদেশের কথা, স্বগ্রামের পশ্চাৎপদতার কথা ভুলে গিয়ে আত্নকেন্দ্রিক হয়ে থাকেনি । বরং প্রধান শিক্ষক জনাব আবুল হায়াত চৌধুরীর সঙ্গে নিয়মিত পত্র যোগাযোগ রেখে বিদ্যালয়টির উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহনের জন্য ১৯৭৯ থেকে সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার কথা সাগ্রহে ব্যক্ত করতে থাকেন । বাংলাদেশের উন্নয়নের জাপানের সহযোগীতার প্রেক্ষাপটে এ উদ্দেশ্যে জাপানকেই তিনি তাঁর আর্থিক শক্তি সঞ্চয়ের সর্বোত্তম উৎসরূপে বেছে নেন । শিক্ষা-শিল্প-সংস্কৃতির ক্ষেত্রে দ্রুত উন্নতিতে সেদেশের উদার হৃদয় রোটারীয়ানদের ভূমিকা দেখে তিনি আশান্বিত হন এবং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক অজ পাড়াগাঁয়ে প্রতিষ্ঠিত বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়নের তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করার প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য সক্রিয় হয়ে উঠেন । সে ইতিহাস বেশ দীর্ঘ । তবু প্রয়োজনবোধে অত্যন্ত সংক্ষেপে এখানে কিছুটা লিপিবদ্ধ হল ।

১৯৮৬ সালের জুন সংখ্যা মাসিক “রোটারী নো তোমো”পত্রিকায় “অন্ধকারে আলোদিন” শিরোনামে জাপানী ভাষায় তিনি বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া একটি গ্রামে একটি আধুনিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার ব্যাপারে জাপানী রোটারীয়ানদের উদ্দেশ্যে  আকুল আবেদন জানাতে থাকেন ।

তিনি প্রথমে বেতাগীর অন্যতম কৃতি সন্তান প্রকৌশলী জনাব কামালুদ্দীন আহমদ চৌধুরীর তৈরী নকশা ও প্রাক্কালনের ভিত্তিতে ১৯৮৬ সালের আগষ্ট মাসে “ বেতাগী শুভেচ্ছা  বিদ্যালয় প্রকল্প” নামে জাপানি ভাষায় একটি তথ্য পুস্তিকা প্রণয়ন করেন । এ পুস্তিকায় তিনি গ্রাম-প্রধান বাংলাদেশে একিট আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত বিদ্যালয় প্রতিষ্টার বেসরকারী উদ্যেগের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এক্ষেত্রে জাপানের ত্রিশজন বিশিষ্ট রোটারীয়ানের কাছে পুস্তিকাটি পাঠিয়ে তাদের আর্থিক সাহায্য কামনা করেন । এব্যাপারে জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রদূত জনাব এ কে এন আহমদের একটি সুপারিশপত্র ও তিনি সংগ্রহ করে ঐ পুস্তিকার সঙ্গে বিলি করেন যা উদ্দেশ্য সাধনে বিশেষ সহায়ক হয়েছিল ।

উল্লিখিত ত্রিশজন বিশিষ্ট জাপানী রোটারীয়ানদের অর্ন্তভুক্ত ছিলেন বর্ষীয়ান রোটারীয়ান ডাঃ হিরোমু আকিয়্যামা, রোটারীয়ান ওসমু কিনোশিতা, রোটারীয়ান য়্যশিযো কোয়্যামো প্রমুখ । তাদেরই প্রচেষ্টায় ১৯৮৯ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে রোটারী ইন্টারন্যাশনাল জিলা ২৭৭০ থেকে এক শক্তিশালী প্রতিনিদি দল ডাঃ হিরোমু আকিয়্যামার নেতৃত্বে সর্বপ্রথম বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় সফর করেন এবং বিদ্যালয়টির বিভিন্ন দিক সম্পকিত প্রয়োজনীয় তথ্যাবলী সম্যকভাবে অবহিত হনএ শক্তিশালী প্রতিনিধিদলের সম্নানিত সদস্যবর্গের এক বর্ণাঢ্য স্বাগত সম্বর্ধনায় আপ্যায়িত করা হয় ।  এ সম্বর্ধনা সভাতেই তারা প্রস্তাবিত বিদ্যালয় প্রকল্পে আর্থিক সাহায্য প্রদানের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা ঘাষনা করেন ।

পরবর্তীতে প্রতি বৎসর জানুয়ারী-ফেব্রুয়ারী মাসে প্রকল্পটির কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রত্যক্ষ করার জন্য জাপানী রোটারীয়ানরা নিয়মিত বেতাগী শুভাগমন করেন । সে অব্যহত ধারার অনুসরনে ১৯৯৬ সনের জানুয়ারীর তিরিশ তারিখে বেতাগী এসে তাদের সম্নানে অনুষ্টিত সম্বর্ধনা সভায় তারা আমাদের বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের জন্য একটি বৃত্তি ও ভাতাব্যবস্থা পতনের ঘোষনা দেন । তাদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতার ঋণ অপরিশোধ্য।

১৯৮৯ থেকে ১৯৯৫ এর ৩১ ডিসেম্বর সময়ের ভিতর জাপানী রোটারীয়ানদের কাছ থেকে প্রকল্প নির্মানের জন্য বাংলাদেশী মুদ্রায় প্রায় এক কোটি ২০ লক্ষ পরিমান আর্থিক সাহায্য পাওয়া যায়।এইটাকা সুপরিকল্পিতভাবে পর্যায়ক্রমে ১১০৩১মাপের“সাকুরা” ও “চম্পা” নামেরদুটিদ্বিতলপাকাভবনএবং১৫৬৬৬ মাপের “নীহারিকা” নামের একটি সুন্দর সুদৃশ্য মিলনায়তন (auditorium)নির্মিত  হয়েছে ।

বর্তমান আমাদের এই পরম হিতৈষী বন্ধু রোটারীয়ানদেরই অর্থানুকূল্যে বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মান করা হয়েছে ।

জাপানী রোটারীয়ানদের অর্থানুকুল্যে বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের এই যে ক্রমগ্রতির ইতিহাস খুবই সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো, এতেই প্রতীয়মান হয় জাপান আমাদের কতখানি বন্ধুপ্রতীম দেশ, তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কতখানি আন্তরিক এবং তারা কতখানি ঐতিহাসিক কৃতিত্বের দাবীদার ।

অনুচ্চ টিলার উপর সবুজ বনানী পরিবেষ্টিত মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ “সাকুরা, চম্পা, ও নীহারীকা ভবন তিনটি যখন বহুদুর থেকে দৃশ্যমান হয়, রাতের বেলায় যখন হয় আলো ঝলমল, তখন গর্বে আমাদের বুকে ফুলে উঠে । বেসরকারি উদ্যোগে গ্রামাঞ্চলে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত এতো বড়ো এবং সুন্দর শিক্ষা প্রতিষ্টান গড়তে পেরে সত্যিই আমরা আনন্দিত ।

ইতিহাসে অক্ষয় হয়ে থাকুক জাপানী রোটারীয়ানদের এই অকৃত্রিম বন্ধুত্ব ও অবদানের স্বাক্ষর-স্বারকরুপে রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ।

জাপানী রোটারীয়ানদের বাৎসরিক সফরে আগমনের ফলে নিন্তরঙ্গ গ্রামবাসীর মনে জাগে অভূতপূর্ব প্রাণচাঞ্চল্য । তারা আরো গভীর ভাবে অনুভব করতে পারে শিক্ষার কোন বিকল্প নেই ।

যেখানে ছীল রক্ষনশীলতার, বিশেষ করে মেয়েদের বেলায় লেখাপড়ার প্রতি অভিভাবকদের ছিল অনীহা, সেখানে জাপানী রোটারীয়ানদের অবেদন গিয়ে পৌঁছায় বেশী । ছেলেদের সঙ্গে সমান তালে মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে অভিভাবকরা আর কুণ্ঠিত নন । হাতের কাছেই শিক্ষা লাভের অবধারিত সুযোগ মেয়েদেরন দনিবার আকর্ষণে টানছে । সুন্দর পরিবেশে সুন্দর বিদ্যালয় গৃহে সুদক্ষ প্রধান শিক্ষকের পরিচালনায় নিবেদিত প্রাণ নবীণ-প্রবীন শিক্ষক-শিক্ষিকাগণের প্রেরণায় আজ ঘরে ঘরে জেগেছ নতুন করে জাগরণের ঢেউ। ১৯৬৮ ইংরেজী থেকে যে উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে শুরু হয়েছিল বহুল আকাক্খিত বিদ্যালয়টি, রোটারীয়ানদের হস্তস্পশের পর থেকে তা বৃদ্ধি পেয়েছে সহস্রগুণ ।

অবশ্য এখানেই আমাদের সমাপ্তি নয় । আমাদের স্বপ্ন প্রকল্প আছে আরো অনেক। তাই আত্নসন্তুষ্টির ফাঁদে পা না দিয়ে উপলদ্ধি করতে হবে আমাদের অনির্বান দায়িত্ব ।

আধুনিক প্রচলিত শিক্ষাবিস্তারের পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষা, যথা- কাঠের কাজ লোহালক্কড়, ওয়েল্ডিং, টাইপ, সাটঁলিপি, কম্পিউটার , ফোশাকশিল্প, কৃষিশিল্প, উন্নতজাতের গবাদি পশুপালন, মৎস্য ও হাসঁমুরগীর খামার, জাপানী ভাষা শিক্ষা, বনায়ন, সামাজিক উন্নয়ন, চিকিৎসা কেন্দ্র, পশু চিকিৎসা ও কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র,১১শ ও ১২শ শ্রেণী ইত্যাদি প্রবর্তন করে বিদ্যালয়টিকেএকটি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর প্রতিষ্টানে পরিণত করা সময়ের দাবী পূরণের প্রত্যয়ে আমাদের দায়িত্ব গ্রহণে এগিয়ে আসার সময় এসেছে ।

রোটারী বেতাগী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের অগ্রগতির ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনায় দায়িত্ব নিতে হবে এবার আমাদেরই । ঈঙ্গিত লক্ষ্য হাসিলের জন্য একান্ত ভাবে চাই সার্বিক সহযোগিতা ।

ইতিহাস রচনার উৎস সমূহঃ

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভার কার্যবিবরনী

বিদ্যালয়ের ইতিহাস, শ্যামল মাটির ধরাতলে

অধ্যাপক বাদল বরন বড়ু্যয়ার উন্নয়নের নব দিগন্ত

 

 

১৯৬৮

ছবি নাম মোবাইল ইমেইল
মোহাম্মদ শামসুল আলম ০১৮১৭-৭৩৮৫৬৩ salamrotary@gmail.com

ছবি নাম মোবাইল ইমেইল
রূপাল বরণ বড়ুয়া ০১৭১৫০১২৮৬৪ baruarupal@yahoo.com
শ্রীকান্ত দাশ ০১৮১৬৩৭৩৮৯৯ Sreekanta56@gmail.com
নুরুল ইসলাম ০১৮১৯৭৪৮২৫৩ nislam265325@gmail.com
মোহাম্মদ মাহামুদুর রহমান ০১৮১৪২৯২৬৩০ salamrotary@gmail.com
মোহাম্মদ আবদুল আজিজ ০১৮১৯৭৯৪৯৭৪ salamrotary@gmail.com
মিসেস মঞ্জুশ্রী বড়ুয়া ০১৯২১৮৪৭২১৮ salamrotary@gmail.com
শিল্পী বড়ুয়া ০১৮১৪৪৫৬৩০০ salamrotary@gmail.com
শেখ নজরুল ইসলাম ০১৮১৭৭৩৩২৬৯ salamrotary@gmail.com
আহম্মদ ছৈয়দ ০১৮১৪২৯৬৯৭৯ salamrotary@gmail.com
মুহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ০১৮১৩৬৭৯৭৪০ salamrotary@gmail.com
জয়ন্ত চৌধুরী ০১৮১৮৯১৭২৩৯ salamrotary@gmail.com
দীপ্তিময়ী বড়ুয়া 01727188288 salamrotary@gmail.com
সমীর কান্তি দত্ত 01825662180 salamrotary@gmail.com

শ্রেনী

ছাত্র

ছাত্রী

৬ষ্ট

৫৬

৫১

সপ্তম

৫২

৪৯

অষ্টম

৪৩

৫৮

নবম

৫০

৩৭

দশম

৩৬

২৭

 

২৩৭

২২২

90.90%

ক্রমিক নং নাম বিবরণ পদবী ০১ জনাব মোস্তাফিজুর রহমান সভাপতি ০২ জনাব মোহাম্মদ শামসুল আলম সম্পাদক/সদস্য সচিব ০৩ সৈয়দ মাহমুদুল হক দাতা সদস্য ০৪ জনাব পেয়ারুল হক চৌধুরী কো-অপ্ট সদস্য ০৫ জনাব নজির আহম্মদ অভিভাবক প্রতিনিধি ০৬ জনাব আবদুল্লাহ বাদল অভিভাবক প্রতিনিধি ০৭ জনাব মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন অভিভাবক প্রতিনিধি ০৮ জনাব চৌধুরী জিয়া উদ্দিন মালিক অভিভাবক প্রতিনিধি ০৯ জনাব খালেদা বেগম সংরক্ষিত মহিলা অভিভাবক প্রতিনিধি ১০ বাবু শ্রীকান্ত দাশ শিক্ষক প্রতিনিধি ১১ জনাব নুরুল ইসলাম শিক্ষক প্রতিনিধি ১২ মিসেস মজ্ঞুশ্রী বড়ুয়া সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক প্রতিনিধি

শ্রেণী

ছাত্র

ছাত্রী

ফেল

এস.এস.সি-২০১১

১৭ জন

৩০ জন

৩৬ জন

এস.এস.সি-২০১২

৩০ জন

৩৫ জন

২৯ জন

এস.এস.সি-২০১৩

৪৪ জন

৫৮ জন

১০ জন

এস.এস.সি-২০১৪

২৯ জন

৩৭ জন

০৯ জন

এস.এস.সি-২০১৪

১৯ জন

৩১ জন

০৫ জন

শ্রেণী

ছাত্র /ছাত্রীর সংখ্যা

প্রদানকৃত প্রতিষ্টানের নাম বা প্রকৃতি

ষষ্ট

২০জন

সরকারী উপবৃত্তি

সপ্তম

২০ জন

সরকারী উপবৃত্তি

অষ্টম

১৯ জন

সরকারী উপবৃত্তি

নবম

১৮ জন

সরকারী উপবৃত্তি

দশম

১১ জন

সরকারী উপবৃত্তি

ষষ্ট

৬ জন

গুলমেহের স্মৃতি বৃত্তি

সপ্তম

৯ জন

গুলমেহের স্মৃতি বৃত্তি

অষ্টম

৬ জন

গুলমেহের স্মৃতি বৃত্তি

নবম

৩ জন

গুলমেহের স্মৃতি বৃত্তি

দশম

২ জন

অনিক দাশ স্মৃতি বৃত্তি

এস,এস.সি-২০১৫

২ জন

অনিক দাশ স্মৃতি বৃত্তি

অষ্টম

১ জন

ডাঃ দুলাল কান্তি দত্ত স্মৃতি বৃত্তি

ষষ্ট

১ জন

ডাঃ দুলাল কান্তি দত্ত স্মৃতি বৃত্তি

নবম

১ জন

ডাঃ দুলাল কান্তি দত্ত স্মৃতি বৃত্তি

দশম

১ জন

ডাঃ দুলাল কান্তি দত্ত স্মৃতি বৃত্তি

এস.এস.সি-২০১৫

১ জন

ডাঃ দুলাল কান্তি দত্ত স্মৃতি বৃত্তি

অষ্টম

১ জন

প্রাথমিক সরকারি বৃত্তি

এস.এস.সি-২০১৫

১ জন

অষ্টম শ্রেণী সরকারি বৃত্তি

বিদ্যালয়ের জে.এস.সি ও এস.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল যথাক্রমে ৯০.৭৩% ও ৯২.০০ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি জুনিয়র বৃত্তি লাভ ও এস.এস.সি পরীক্ষায় কৃতি শিক্ষার্থী অজন । বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ শিক্ষন উপযোগী ও দক্ষ ও অভিজ্ঞ ও প্রশিক্ষনপ্রাপ্ত শিক্ষক মন্ডলীর তত্তাবধানে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে । সম্পূর্ন  জাপানী অথায়নে তিন জন শিক্ষককে জাপানে নিয়ে জাপানী ভাষার প্রশিক্ষন প্রদান । বিদ্যালয়ের দুন জন শিক্ষার্থীকে জাপানে নিয়ে শিক্ষার সুযোগ প্রদান । নির্ধারিত শর্তে শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জাপান যাওয়ার সুযোগ । 

এস.এস.সি ও জে.এস.সি পরীক্ষার ফলাফল ১০০% এ উন্নতি করা । বিদ্যালয়ে  ১১শ ও ১২শ  (একাদশও দ্বাদশ) শ্রেনি কার্যক্রম শুরু কর । বিদ্যালয়ের জন্য একটি প্রশাসনিক ভবন নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গনের সহায়তা নেওয়া বিদ্যালয়টিকে একটি আদর্শ বিদ্যালয়ের রুপ প্রদান করা । 

যোগাযোগ- বিদ্যালয়ের অবস্থান হইতে পূর্বে শান্তির হাট তিন (আনুমানিক) কিলোমিটার। পশ্চিমে পাহাড়তলী চার (আনুমানিক) কিলোমিটার। দক্ষিণে আধ কিলোমিটার অন্তর কর্ণফুলী নদী উত্তরে চম্পাতলী পাহাড় ও ঢেমিরছড়া গ্রাম। 

শ্রেণী

ছাত্র/ছাত্রীর নাম

রোল নং

ষষ্ট

সাফিয়া আনিস

০১

ষষ্ট

অপরাজিতা বড়ুয়া

০২

ষষ্ট

আপিপা সুলতানা

০৩

ষষ্ট

সানজিদা আকতার

০৪

ষষ্ট

জায়তুন নেছা

০৫

সপ্তম

রুম্পা নাথ

০১

সপ্তম

জুলি আকতার

০২

সপ্তম

মোনালিসা বড়ুয়া

০৩

সপ্তম

আয়শা আকতার

০৪

সপ্তম

ফাহমিদা শিরিন

০৫

 

 

 

অষ্টম

ওয়ালিদ জুমলাত

০১ (খ)

অষ্টম

সরবান তাহুড়া

০১ (ক)

অষ্টম

তাসনোভা হোসেন

০২(ক)

অষ্টম

আমাতুল মোস্তাফা

০৩(ক)

অষ্টম

তানজিনা নাসরিন

০৪(ক)

নবম

রকি বড়ুয়া

(বিঃ) ০১

নবম

সৈয়দ ইমতিয়াজ আহমদ

(বিঃ) ০২

নবম

সাবরিন নাহার মুক্তা

(বিঃ) ০৩

নবম

নুসরাত জাহান

(বিঃ) ০৪

নবম

দীনা আকতার

(বিঃ) ০৫

দশম

সাজেদা সুলতানা

(বিঃ) ০১

দশম

আবুল হোসেন

(বিঃ) ০২

দশম

সাবরিনা চৌধুরী

(বিঃ) ০৩

দশম

আবুতারিন বাহাত

(বিঃ) ০৪

দশম

মোঃ রিয়াজুল ইসলাম

(বিঃ) ০৫



Share with :

Facebook Twitter